ভাত খাওয়ার পর যে পাঁচটি কাজ ভুলেও করবেন না!

0
792

পৃথিবীতে অন্তত তিনশ কোটি মানুষের প্রধান খাবার ভাত ৷চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যরক্ষায় ভাত খাবার পর পাঁচটি কাজ করতে অনুৎসাহিত করেন। এগুলো হলো:

১. ভাত খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে বা ১/২ ঘণ্টা পর ফল খাবেন। কেননা, ভাত খাওয়ার পরপর কোনো ফল খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

২. সারাদিনে অনেকগুলো সিগারেট খেলে যতখানি ক্ষতি হয়, ভাত খাওয়ার পর একটি সিগারেট বা বিড়ি তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি করে। তাই ধূমপান করবেন না।

৩. চায়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ টেনিক এসিড থাকে যা খাদ্যের প্রোটিনের পরিমাণকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে তোলে। ফলে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে। তাই ভাত খাওয়ার পর চা খাবেন না।

৪. বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর ঢিলা করবেন না। খাবার পরপরই বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর ঢিলা করলে অতি সহজেই ইন্টেস্টাইন (পাকস্থলি) থেকে রেক্টাম (মলদ্বার) পর্যন্ত খাদ্যনালীর নিম্নাংশ বেঁকে যেতে পারে, পেঁচিয়ে যেতে পারে অথবা ব্লকও হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের সমস্যাকে ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশ বলা হয়। কেউ বেশি খেতে চাইলে আগে থেকেই কোমরের বাধন ঢিলা করে নিতে পারেন।

৫. গোসল করবেন না। ভাত খাওয়ার পরপরই গোসল করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পাকস্থলির চারপাশের রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে যা পরিপাক তন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলবে, ফলে খাদ্য হজম হতে সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী লাগবে।

 

সফলতার জন্য যা দরকার

জীবনের সফলতার গল্পে আত্মবিশ্বাস যেমন জরুরি, আত্মবিশ্বাসহীনতাও তার চেয়ে কম জরুরি কিছু নয়। প্রবল আত্মবিশ্বাসী মানুষগুলোর ভেতরে ক্রমশই দুর্বিনীত হয়ে ওঠা অহমিকা দেখেছি। সেই অহমিকাজুড়ে, ‘আমার কোন ভুল নেই, আমি ভুল কিছু করতে পারি না’ টাইপ ভাবনা দেখেছি, আচরণ দেখেছি।

এই মানুষগুলো ক্রমাগত অন্যকে ডিফাইন করতে শুরু করে। নিজেকে ভাবতে শুরু করে সব কিছুর এক ও অদ্বিতীয় মানদণ্ড। তার ভাবনাজুড়ে তখন কেবল থাকে, ‘অনলি আই অ্যাম রাইট!’ সে ভাবতে থাকে, তার আশপাশে ঘটা সব ঘটনা, সব মানুষকে ব্যাখ্যা করার, সংজ্ঞায়িত করার অধিকার কিংবা দায়িত্ব কেবল তার!

এই ভাবনা এক ধরনের অসুস্থতা। এই আত্মবিশ্বাস আসলে আত্মঘাতি। এটি তাকে অন্যের কাছ থেকে শিখতে বাঁধা দেয়। এটি তাকে হেরে যাওয়া মুহূর্তে হার মেনে নিয়ে নতুন করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার বদলে জিঘাংসু করে তোলে। প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে। এটি তাকে ভেতরে ভেতরে ক্রমশই করে তোলে ফাঁপা। সে শেখার চেয়ে, জানার চেয়ে অনেক বেশি বাগাড়ম্বরে নিজেকে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে।

সে ভুল করেও মেনে নিতে পারে না, তার ভুল হতে পারে। সে ক্রমশই ‘আমিত্ব’তাড়িত এক অসুস্থ মানুষে পরিণত হয়। এটি ভয়াবহ ক্ষতিকর। তার নিজের জন্যই। কিন্তু এই মানুষগুলো ততদিনে ওই প্রবল ঔদ্ধত্য দিয়ে এতটাই নিসঃঙ্গ হয়ে যায় যে, কেউ তাকে আর বলতেও আসে না, আপনি ভেতরে ভেতরে ঘুণে ধরা চকমকে আসবাব হয়ে গেছেন। যার ভেতরটা ফাঁপা। কিচ্ছু নেই, কিচ্ছু না।

এজন্যই খানিকটা আত্মবিশ্বাসহীন হওয়া জরুরি। তাহলে শেখার, জানার, নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝার আগ্রহটা থাকে। নিজেরও অসংখ্য ভুল হতে পারে, এই বোধটুকু থাকে। দুর্বিনীত, উদ্ধত হতে দ্বিধা হয়। মনে হয়, যদি আমি ভুল হই? এই ভাবনাটা মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। এই ভাবনা ‘আমি পারি’ বলার বদলে মানুষকে বলতে শেখায়, ‘আমি পারবো’।

‘পারি’ থেকে ‘পারবো’র ফারাক ঢের বেশি। ‘পারি’র চেয়ে ‘পারবো’র শক্তি অনেক অনেক বেশি। অনেক অনেক সম্ভাবনার, অনেক অনেক এগিয়ে যাওয়ার।‘আমি পারি’ এই ভাবনা মানুষকে ভুল করতে শেখায়, উদ্ধত হতে শেখায়। আর ‘আমি পারবো’ মানুষকে শেখায় আরও পরিশ্রমী হতে, একনিষ্ঠ হতে, অধ্যবসায়ী হতে, স্বপ্ন দেখতে। এই স্বপ্নরা ক্রমাগত ওই ‘পারবো’তে সওয়ার হয়ে উড়ে উড়ে ছুটে যায় আকাশের সীমানায়। ছুঁয়ে দিতে চায় স্বপ্নের সবটুকু সীমানা।

SHARE

LEAVE A REPLY